দুদিনের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন সুন্দরবনে বিস্তীর্ণ এলাকা
দি নিউজ লায়নঃ দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনের ক্যানিং-১ ও ২,বাসন্তী, কাকদ্বীপ,পাথর প্রতিমা,সাগর,নামখানা সহ বিভিন্ন ব্লক গুলিতে টানা দুদিনের বৃষ্টিতে বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ছে।ফলে অসহায় হয়ে পড়েছে বহু মানুষজন।বুধবার থেকে টানা বৃষ্টি শুরু হয় সুন্দরবনের জুড়ে।আজ ও বৃষ্টিপাত চলছে।আর এই একটানা বৃষ্টিপাতে কোথাও এক হাঁটুতো,কোথাও এক কোমড় বৃষ্টির জল দাঁড়িয়ে যায়।এদিকে সুন্দরবনের নদী গুলিতে জোয়ারের জল বেড়ে যাওয়ায় জল নিকাশি সমস্যা হয়।ফলে বহু মানুষের ঘরে বৃষ্টির জল ঢুকে যায়।যার ফলে ঘর থেকে বেরিয়ে বেশ কিছু মানুষ জন ভ্যানের উপর উঠে বসে।এমনকি মাতলা জমি রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে এক হাঁটুর উপরে জল দাঁড়িয়ে যায়।
যার ফলে বহু মানুষজন জমি রেজিস্ট্রিতে সমস্যায় পড়ে।মাতলা অঞ্চলের রাজারহাট পুরাতন চাঁদনি গ্রামে একশো বছরের পুরানো রক্ষাকালি মন্দির এবং শনি মন্দিরে জল উঠে যায়।ফলে পুজো আর্চনায় সমস্যায় পড়ে ভক্তরা।পাশাপাশি সুন্দরবনের কৃষি জমিতে অতিরিক্ত জল দাঁড়িয়ে যাওয়ায় ফলে সমস্যায় পড়েছে কৃষকরা।এমনকি বহু মাছ চাষের পুকুর টানা বৃষ্টির ফলে পুকুর ভেসে যায়।ফলে মাথায় হাত মৎস্য চাষীদের।অন্য দিকে টানা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পান চাষ থেকে শুরু করে সবজি চাষ।এদিকে টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়লে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন ক্যানিং পশ্চিম কেন্দ্রের বিধায়ক পরেশ রাম দাস,বাসন্তী কেন্দ্রের বিধায়ক শ্যামল মন্ডল,বিভিন্ন দফতরের আধিকারিক, পঞ্চায়েতের প্রধান উপ প্রধান,পঞ্চায়েত সদস্যরা।
বিধায়ক পরেশ রাম দাস,শ্যামল মন্ডল বলেন টানা দুদিনের বৃষ্টিতে বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ছে।কৃষি থেকে মাছ চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।এমনকি বহু ঘরবাড়ি ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।তবে ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে সব ধরনের সরকারি সুযোগ সুবিধা পায় সেই দিকটা দেখা হচ্ছে।কিছুদিন আগে ইয়াসের তাণ্ডবে সুন্দরবনের বিস্তীর্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ছিল।আবার এই টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ছে বিভিন্ন এলাকা।এদিকে টানা বৃষ্টির ফলে ক্যানিং মহকুমা কয়েক হাজার মানুষজন কে ত্রাণ শিবিরে রাখা হয়।এরমধ্যে গোসাবা ব্লকে সাড়ে ৩ হাজার মানুষ কে ত্রাণ শিবিরে রাখা হয় এবং ক্যানিং-১ ব্লকে প্রায় ৪০০ জন মানুষ কে ত্রাণ নিয়ে এনে রাখা হয়।গোসাবা বিডিও সৌরভ মিত্র জানান টানা বৃষ্টির ফলে বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।ফলে সাড়ে ৩ হাজার মানুষজনকে ত্রাণ শিবিরে এনে রাখা হয়েছে এবং সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

Post a Comment